ইন্টারনেট- ব্যবহার- সম্ভাবনা- ধারনা

User Rating:  / 1
PoorBest 

বর্তমানে আমাদের দেশে নেটের জনপ্রিয়তা আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করেছে, অনেকেই এখন নেট ব্যবহারটাকে প্রয়োজনের একটা অংশ হিসেবেই ধরছেনশিক্ষার্থীদের জন্য তো ইন্টারনেট খুবই সুবিধাজনক ব্যাপার যে কোন কিছুরই সহজ সমাধানেরজন্য, (পাচ্ছো না, কিংবা বুঝতে সমস্যা হচ্ছে, শুধু কষ্ট করে একটু গুগল বাবিং করো , ব্যাস হয়ে গেলো।)
আর, ব্যবসায়ীদের কথাটা না বললেই নয়, বিশেষ করে যাদের ব্যবসা অনেকটাই বিদেশ নির্ভর তাদের জন্য তো নেট সম্পূর্ন অপরিহার্য।

তাই দেশের ইন্টারনেটের বাজারও বড় হয়েই চলেছে, প্রথম দিকেই নেট ছিল হয়টেলিফোনের ডায়াল আপ অথবা ব্রডব্যান্ড, তারপর আস্তে আস্তে যুক্ত হলো মোবাইলইন্টারনেটের সুবিধা (যা খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়ে গেল), আর শুনছি দ্রুতইআসবে ওয়াই ম্যাক্সের সুবিধাসোজা কথা নেটের ব্যবহার দিন দিন দেশে বেড়েইচলেছে
কিন্তু তারপরও এক কিন্তু যা বাড়েনি তা হচ্ছে নেট ব্যবহার করে নিজের উন্নয়ন ঘটানোরপ্রয়াস (অনেকের কাছেই এখনো নেট মানে অবসর কাটানো কিংবা ফেসবুক অথবা মাফিয়ারমতো গেমস এ আসক্ত হয়ে পড়া)!!

দুই - যা দূর হয়নি তা হচ্ছে একটা বড় মহলের নিকট এখনো নেট ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে নানা বিধ প্রশ্ন!!

তিন - যা আসেনি তা হচ্ছে, ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (অবশ্য আসবেকিভাবে, যে স্পীড, আর সাথে দুই দিন পর পর সাইবার কেবল কাটা যাওয়ার ঘটনা)!!
প্রথমে আসছি নেট ব্যবহার করে নিজেদের উন্নয়ন ঘটানোর প্রয়াসের মাধ্যমে-এর কথায়
ইন্টারনেটের মাধ্যমে জ্ঞান আহোরন আজ হয়ে উঠেছে আরো সহজযেকোন ব্যাপার একটুঘাটলেই পাওয়া যাচ্ছে সহজ সমাধান, কিন্তু আমাদের দেশে কতজনই বা শিক্ষারক্ষেত্রে নেট এর ব্যবহার করেন, যদিও এর উপর আমার কোন পরিসংখ্যান জানা নেই, কিন্তু আশেপাশের মানুষ হিসেবেই দেখা যাচ্ছে - সংখ্যাটা হাতে গোনার মতইকিন্তু আমাদের আশেপাশে নেট ব্যবহার করে চ্যাটিং, ফেসবুক, গান ডাউনলোড, মুভিডাউনলোড করছে - এমন মানুষের কোন অভাব আছে কি?? ( এখানে আমি এসব চিত্তবিনোদনের জন্য নেট এর ব্যবহার কিংবা সামাজিক যোগাযোগ রক্ষার জন্য নেট এরব্যবহার কে ছোট করে দেখছি না, কিংবা, খারাপ এ কথাও বলছি না, আমি বলছি এরসাথে সাথে নিজের শিক্ষার কিংবা যোগ্যতার উন্নয়ন ঘটানোর যে সুযোগ, সেটাই বাকত জন ব্যবহার করছেন!!)

এই কথা গুলো বলতে গিয়ে বছর দশেক আগের কম্পিউটার-এর কথা গুলো মনে পড়ে যায়, যখন পিসি বেশির ভাগ বাসাতেই ব্যবহার হতো শুধুমাত্র গেমিং ডিভাইস হিসেবেই!!!
দ্বিতীয় কথায় যাওয়ার আগে তৃতীয় কথায় আসছি, নেট স্পীড এবং খরচ বিষয়কঃ
এ ব্যাপারটা সম্পূর্ণই নির্ভর করে সরকারী নীতি নির্ধারকদের উপর, যেহেতুতারা সঠিক সময়ে যুগপোযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন না (কেন করেন না সেটাবুঝিনা), সেহেতু আমাদের পিছিয়ে পড়তে হয় বহু বছর, উদাহরন হিসেবে এখন ওআমাদের দেশের নেটের স্পীড দিয়ে নেট ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেই অর্থেগড়ে উঠছেনা এবং বিদেশীরা বিনিয়োগে খুব একটা আগ্রহ পাননা!!!

সাথে খরচ আরেকটি বাধা, বার বার শুনছি নেট এর খরচ চলে আসবে হাতের নাগালে, কিন্তু শুনেই চলেছি, সত্যিকারের কোনা পরিবর্তন এখনও দেখতে পেলাম না!!!
এবার আসছি বার্নিং ইস্যুতে - দ্বিতীয় কথায় একটি বড় মহলের কথায় যাদের নিকট নেট ব্যবহার এখনো প্রশ্নবিদ্ধ!!!!!

আমাদের দেশের অভিভাবকদের একটি বড় মহল এখনও নেট ব্যবহারকে প্রয়োজনতো দূরেথাক, ভালো চোখে দেখতেই নারাজ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য, অথচ, তারাজানেনওনা, তাদের এরূপ ধারনার কারনেই তারা তাদের সন্তানদের পিছিয়ে দিচ্ছিনসারা বিশ্বের প্রতিযোগীতা থেকে, আর এর ফল হিসেবে সে সব সন্তানদের মাঝেও যে 'নেট অর্থই একটি কালো জগত' এমনটা বদ্ধমূল ধরনাই জন্ম নিচ্ছে, আর যখন তারানেট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে, তারাও সেই কালো জগত ঘুরে দেখতে পিছপা হচ্ছে
ফলাফল দাড়ালোটা কি- সেই একই, নাহলে আরেকটু খারাপই বলা চলে

এমন অবস্থাকে সহজেই একটি গল্প দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া যায়,
কারো মাথা ব্যাথা হয়, সে ই করবে, তার চিকিৎসা করাবে, নাকি মাথাই কেটে ফেলবে????
আমাদের সেই বিশেষ মহলের কর্মকান্ড দেখে মনে হয়, তাদের এরূপ প্রশ্নের সামনেদাঁড় করিয়ে দেয়া হলে, তারা মাথা কেটে ফেলার পক্ষেই মত দিবেন।।

এহেন অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য সচেতনতাকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতেহবে, আর শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়েই এর ব্যবহার করলে হবে না, হতে হবে প্রিন্টমিডিয়া এবং অন্য মিডিয়ার সহযোগিতাতেই

আর, সচেতন হোন, সচেতন হোন বলে চিৎকার দিলেও যে সচেতনতা এসে যাবে - কখোনোনয়, বরং সুস্থ নেট ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে নির্মান করা যেতে পারে কোনজনপ্রিয় অনুষ্ঠান কিংবা প্রতিযোগীতা মূলক অনুষ্ঠান
আর সাবাইকেই ব্যবক্তিগত ভাবে তার পরিবার আর বন্ধু মহলে এর ভালো দিক এবংঅপার সম্ভাবনার ব্যাপারটিকে সামনে তুলে আনতে হবে - তবেই হয়তো সত্যিকারেরবদলে যাওয়া সম্ভব হবে!!!